ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গু : একদিনে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ৭৭৮

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় এই মশাবাহিত রোগে প্রাণহানির সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বেশ আশঙ্কাজনক। একই সময়ে মশাবাহিত এই জরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন আরও ৭৭৮ জন রোগী। মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান এবং নতুন রোগীর সংখ্যা জনমনে নতুন করে ভীতির সঞ্চার করেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করেছে। মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্তের হারও ঊর্ধ্বমুখী। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৭৮ জন, যারা তীব্র জ্বর এবং ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক রোগীই একেবারে শেষ মুহূর্তে বা শক সিন্ড্রোম নিয়ে হাসপাতালে আসছেন, যার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে।


হাসপাতালগুলোর চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্তদের একটি বড় অংশ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে ঢাকার বাইরেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রোববার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পাশাপাশি বাইরের জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গুর এই চোখ রাঙানি থামছে না। বরং গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, নভেম্বরের শেষ দিকে এসেও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ডেঙ্গু রোগীদের এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চাহিদা অনেক বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার পরামর্শ দিচ্ছেন যে, জ্বরের শুরুতে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, বর্তমানে ডেঙ্গুর ধরণ পরিবর্তন হচ্ছে এবং রোগীদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে প্লাটিলেট কমে যাওয়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যাগুলোই বেশি দেখা যাচ্ছে। রোববার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট যে, একদিনে ৭৭৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বিস্তার এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।


পুরো বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও বছরের এই শেষ সময়ে এসে মৃত্যুর সংখ্যার এই উলম্ফন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রচার করছে এবং জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, সচেতনতার অভাবে এখনও বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৮ জনের পরিবারে এখন শোকের ছায়া, আর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা কাটাচ্ছেন চরম উৎকণ্ঠায়। মূলত, ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই অবনতি এবং একদিনে এত বড় সংখ্যক প্রাণহানি আবারও প্রমাণ করল যে, মশা নিধন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page